অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এই পোস্টে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শুধু জন্ম সনদের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে আপনি খুব দ্রুত জানতে পারবেন, আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে রয়েছে কিনা এবং সেখানে থাকা তথ্যগুলো সঠিক কি না।
এখানে মোবাইল দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম থেকে শুরু করে যাচাই কপিটি কীভাবে ডাউনলোড বা সংরক্ষণ করবেন, সবকিছুই ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। চলুন, বিস্তারিত দেখে নেই।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে যা যা লাগবে
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করতে আপনার মাত্র দুইটি তথ্য প্রয়োজন
- জন্ম সনদ নম্বর
- জন্ম তারিখ (বছর–মাস–দিন)
এই দুইটি তথ্য সঠিকভাবে দিলে আপনার মোবাইল থেকেই সহজে যাচাই করা যাবে জন্ম নিবন্ধনটি অনলাইনে আছে কিনা এবং সনদে থাকা তথ্যগুলো ঠিক আছে কিনা।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম
নিচের ফর্মটি পূরণ করে জন্ম সনদ যাচাই করে নিন।
- উপরের ফর্মে প্রথম ঘরে আপনার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার লিখুন।
- দ্বিতীয় ঘরে বছর–মাস–দিন ফরম্যাটে জন্ম তারিখ দিন।
- এরপর জন্ম নিবন্ধন যাচাই বাটনে ক্লিক করলে আপনাকে একটি নতুন পেজে নিয়ে যাবে।
- নতুন পেজে একটি ক্যাপচা কোড দেখানো হবে, কোডটি নিচের ঘরে লিখে Search বাটনে ক্লিক করলে আপনার জন্ম তথ্য স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।
এই পদ্ধতিতে সরাসরি everify.bdris.gov.bd–এ গিয়ে আলাদা করে সব তথ্য লিখতে হবে না। এখানে তথ্য পূরণ করলেই পরের পেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ফিল্ড ভর্তি হয়ে যাবে। আপনাকে শুধু ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে দিয়ে Search ট্যাপ করতে হবে।
এরপরই আপনার জন্ম সনদের তথ্য দেখা যাবে।
#ধাপ ১ – BDRIS.GOV.BD ভিজিট করুন
জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে যাচাই করতে হলে প্রথমে যেতে হবে সরকারের অফিসিয়াল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইটে। গুগলে bdris লিখে সার্চ করলেই অফিসিয়াল লিংকটি পাওয়া যায়। চাইলে সরাসরি ব্রাউজারে https://everify.bdris.gov.bd/ টাইপ করে এন্টার করেও প্রবেশ করতে পারেন।
এখানে জন্ম সনদ যাচাইয়ের পাশাপাশি নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন, মৃত্যু সনদ যাচাইসহ জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধন সম্পর্কিত আরও অনেক সেবা এক জায়গা থেকেই গ্রহণ করা যায়।
#ধাপ ২ – জন্ম নিবন্ধন নাম্বার প্রদান করুন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে একটি ফর্ম দেখা যাবে, যেখানে প্রথম ঘরেই আপনার Birth Registration Number দিতে হবে। এখানে অবশ্যই ১৭ ডিজিটের নাম্বার লিখতে হয়।
যাদের পুরোনো ১৩ ডিজিটের জন্ম সনদ আছে, তারা নাম্বারের শুরুতে নিজের জন্ম সাল যোগ করে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার সহজেই ১৭ ডিজিটে রূপান্তর করতে পারবেন।

#ধাপ ৩ – জন্ম তারিখ প্রদান করুন
জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দেওয়ার পর দ্বিতীয় ঘরে আপনার জন্ম তারিখটি দিতে হবে। এখানে তারিখটি লিখতে হয় Year-Month-Day (YYYY-MM-DD) ফরম্যাটে। যেমন, জন্ম তারিখ যদি ১০ জুন ২০০১ হয়, তাহলে লিখবেন 2001-06-10।
ক্রমটা খুব সহজ, আগে জন্ম সাল, তারপর ড্যাশ দিয়ে মাস এবং তারপর আবারও ড্যাশ দিয়ে দিন (জন্ম তারিখ) লিখুন।

মনে রাখবেনঃ ফরম্যাট ভুল হলে বা ভুল তারিখ দিলে সিস্টেম আপনার জন্ম সনদ যাচাই করতে পারবে না।
#ধাপ ৪ – ক্যাপচা পূরণ করুন
জন্ম নিবন্ধন নাম্বার এবং জন্ম তারিখ প্রদান করার পর নিচে একটি ক্যাপচা দেখাবে। এখানে সাধারণত ছোট একটি অংক বা কোড দেওয়া থাকে। সেই অংকটি দেখে সমাধান করুন এবং নিচের ঘরে সঠিক উত্তরটি লিখে দিন।

এটি মূলত নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়, যেন সিস্টেম বুঝতে পারে আপনি একজন রিয়েল ব্যবহারকারী। ভুল ক্যাপচা দিলে যাচাই প্রক্রিয়া এগোবে না, তাই কোডটি ভালোভাবে দেখে সঠিকভাবে পূরণ করুন।
#ধাপ ৫ – অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই
সব তথ্য ঠিকভাবে দেওয়ার পর Search বাটনে ক্লিক করুন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আপনার জন্ম সনদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে। তবে জন্ম সনদ নাম্বার বা জন্ম তারিখে কোনো ভুল থাকলে সিস্টেম কোনো তথ্য দেখাবে না।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করার নিয়ম
যাচাই পেজ ওপেন হলে আপনি চাইলে সহজেই যাচাই কপিটি প্রিন্ট বা PDF হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারেন। BDRIS ওয়েবসাইটে আলাদা কোনো “Download” বাটন দেওয়া নেই, তাই ব্রাউজারের প্রিন্ট অপশনই ব্যবহার করতে হয়।
কম্পিউটার থেকেঃ
- কীবোর্ডে CTRL + P চাপুন
- “Save as PDF” সিলেক্ট করে সেভ করুন
- চাইলে সরাসরি প্রিন্টও নিতে পারেন
মোবাইল থেকেঃ
- ব্রাউজারের উপরের ৩-ডট মেনুতে চাপুন
- “Share” তারপর “Print” অপশনে যান
- সেখানে Save as PDF নির্বাচন করে ফাইলটি সেভ করুন
এই কপিটিই আপনার অনলাইন যাচাই করা জন্ম নিবন্ধন সনদের ডিজিটাল কপি হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে।
